বিজ্ঞাপনের বিবর্তন

(দ্বিতীয় পর্ব) 

বিজ্ঞাপনের বিবর্তনের প্রথম পর্বে রবীন্দ্রনাথের করা বিজ্ঞাপন সম্পর্কে আলোচনা দিয়ে শুরু করেছিলাম এই পর্বেও তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞাপন জগতের সম্পর্ক নিয়ে কিছু আলোচনা করব রবিকর ছাড়া বাঙালির বেঁচে থাকা অসম্ভব কবির কাছ থেকে যদি দু লাইন প্রশংসাসূচক শব্দ পাওয়া যায় আর তার জোরে যদি নিজেদের পণ্য বাজারে ব্যবসায়িক দিক থেকে সাফল্য লাভ করে, তবে সেই সুযোগ বুদ্ধিমানেরা ছাড়বে কেন? 

এখন প্রশ্ন হল বিশেষ পণ্যটি কবি কি নিজে পরখ করে প্রশস্তি লিখে দিতেন, না শুধুমাত্র অনুরোধের ভিত্তিতে লিখতেন! মিষ্টান্নর ক্ষেত্রে শোনা যায়, কবি খুশি হয়েই পরীক্ষা করতেন এবং কয়েক কলম লিখেও দিতেন সজনীকান্ত দাশ একবার কবির সঙ্গে দেখা করতে যান সেন মহাশয়ের সন্দেশ নিয়ে, আলাপচারিতার সময় সেন মহাশয়ের সন্দেশ প্রসঙ্গে কবি যা বলেছিলেন, সজনীকান্ত দাশের আত্মস্মৃতি থেকে এখানে তুলে ধরছি ‘কবির প্রীত্যর্থে সঙ্গে সেন মহাশয়ের সন্দেশ লইয়া গিয়া-ছিলাম, আস্বাদ করিতে করিতে বলিলেন, দেখ হে, বল্লাল-সেনের কথা বাদই দিচ্ছি, দেওয়ান রামকমল সেন ও তস্য নাতি কেশবচন্দ্রের যুগও কেটে গেছে, দীনেশচন্দ্র সেন পুরাতন বাংলা সাহিত্যের সন্ধান করতে করতে পূরনো হয়ে গেলেন, শেষ পর্যন্ত সন্দেশেও সেন! বাংলা দেশে সেন-রাজত্বের অবসান কখনওই হবে না’ 

শৈশবে দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেট অঞ্চলে জলযোগের একটি বড় দোকান ছিল, সেই দোকানে দেখেছিলাম হাতে আঁকা কবির একটি রঙিন প্রতিকৃতি সঙ্গে লেখা আর তার নীচে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষর এর নেপথ্যের ইতিহাস হল, জলযোগের লাল দই খেয়ে কবি তৃপ্তি প্রকাশ করলে জলযোগ কর্তৃপক্ষ রবীন্দ্রনাথকে অনুরোধ করেন কিছু লিখে দেবার জন্য, লাল দইকে বলা হত পয়ধি সেই দই সম্পর্কে কবি দু চার লাইন লিখেও দেন সেই বিজ্ঞাপনটি একাধিকবার দেখেছি লেক মার্কেট এবং বালিগঞ্জে জলযোগের দোকানে এই দোকান দুটি এখন শুধুই অতীত

জলযোগের মতো দ্বারিক ঘোষের মিষ্টির সম্পর্কেও কবি প্রশংসাপত্র লিখে দিয়েছিলেন বাগবাজারের নবীন ময়রার তৈরি রসগোল্লার ভক্ত ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, কবিবন্ধু ডাক্তার পশুপতিনাথ ভট্টাচার্যের এক স্মৃতিকথা পড়লে জানা যাবে নবীন দাসের রসগোল্লার প্রতি কবির দুর্বলতার কথা পশুপতি ভট্টাচার্য যখন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে কবির সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, তখনই তিনি কবির প্ৰিয় নবীন ময়রার রসগোল্লা হাঁড়িতে নিয়ে যেতেন কিন্ত একবার ঠাকুরবাড়ি যাবার আগে দোকানে গিয়ে দেখেন রসগোল্লার হাঁড়ি শূন্য, সেদিনের মত ওই বিশেষ মিষ্টান্নটি শেষ কী আর করা যাবে! অন্য আর একটি দোকান থেকে রসগোল্লা কিনে তিনি চিৎপুরের উদ্দেশে রওনা দিলেন সেই সময় নবীনের রসগোল্লার সঙ্গে পাল্লা দিতে অন্য অনেক মিষ্টান্ন বিক্রেতা রসগোল্লা তৈরি করতে শুরু করেছিলেন কিন্তু কবি সেই রসগোল্লার মধ্যে স্বাদের পার্থক্য ধরতে পারেন কিছুদিন পরে শান্তিনিকেতন ফিরে গিয়ে পশুপতিবাবুকে এক চিঠিতে লেখেন, ‘আর যাই করো বাপু, এবার থেকে রসগোল্লা নিয়ে এলে, নবীনের থেকেই নিয়ে এসো’ 

আবার ফিরে যাই মিষ্টান্নর বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে দ্বারিক’স গ্রান্ড সন্স-এর সন্দেশ খেয়ে কবি হেসে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের রসস্রষ্টা দুজন প্রথম দ্বারিক দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ’ তার নীচে লেখা ছিল মিষ্টি প্রস্তুতকারক কোম্পানির নাম এবং কলকাতার কোন কোন জায়গায় শাখা রয়েছে সেই জায়গার নামসেই সময় দ্বারিকের শাখাগুলো ছিল শ্যামবাজার, লালবাজার এবং এন্টালিতে এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয় সুতানুটি উৎসবের এক স্মারক গ্রন্থে আর এক মিষ্টান্ন স্রষ্টা ভীমনাগের একটি বিজ্ঞাপনে বিশ্বকবির ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে কবিগুরুর জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি এটি কবির কোনও একটি জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল এটি প্রকাশিত হয় দেশ পত্রিকায় 

কবি কেবল রসনাতেই অমৃতের রসাস্বাদন করতেন না, তাঁর সুরেও বইত সকল রসের ধারা। জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অর্গানের সঙ্গে আর শান্তিনিকেতনে এসরাজের সঙ্গে তাঁর গান গাইবার চল থাকলেও dwarkin –এর হারমোনিয়ামের শব্দ কবিকে মুগ্ধ করেছিল ১০ নম্বর উড স্ট্রিট লেখা লেটার হেডে লেখা এক চিঠিতে কবি লিখেছেন, ‘আপনাদের ডওয়ার্কিন ফ্লুট পরীক্ষা করিয়া বিশেষ সন্তোষ লাভ করিয়াছি, দেশীয় সংগীতের পক্ষে আপনাদের এই যে বিশেষ উপযোগী তাহাতে সন্দেহ নাই আমি এই যন্ত্র ক্রয় করিতে ইচ্ছা করি, আমাকে ইহার মূল্য লিখিয়া পাঠাইবেন নীচে কবির সাক্ষর আজ পর্যন্ত কবির যতগুলি সাক্ষর দেখে এসেছি, সেগুলোর থেকে এই চিঠির সাক্ষরটি একেবারেই স্বতন্ত্র 

এছাড়া কবির গান বা কবিতার লাইন যে কতভাবে কতবার কতজন ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন তার হিসেব রাখা কঠিন সেন রালে ইন্ডাস্ট্রিজ অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের এক বিজ্ঞাপনে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ব্যবহার করা হয়েছিল লাইন দুটি হল, ‘হবে হবে প্রভাত হবে আঁধার যাবে কেটে, তোমার বাণী সোনার ধারা পড়বে আকাশ ফেটে’ এই বিজ্ঞাপনটি কোন পত্রিকায় এবং কত সালে প্রকাশিত হয়েছিল জানা যায় না রবীন্দ্র প্রতিকৃতিসহ স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাকুয়ম অয়েল কোম্পানির  একটি বিজ্ঞাপন ১৯৬১ সালের অক্টোবর মাসে রবীন্দ্রজন্মশতবার্ষিকীর সময় প্রকাশিত হয় গীতবিতান পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় মাত্র তিন টাকা মূল্যের ‘পল ও ভার্জিনি’ বইটি কবিকে মুগ্ধ করেছিল, তার নিদর্শন রয়েছে ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে কবির স্মৃতিকথার প্রাসঙ্গিক অংশটি নিয়ে বইটির একটি ছোট বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল কি? এ ক্ষেত্রেও পত্রিকার নাম এবং সাল তারিখ জানার কোনও উপায় নেই 

দ্য ওরিয়েন্টাল রিসার্চ এন্ড কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি লিমিটেড দ্বারা প্রস্তুত কুমারেশ-এর একটি বিজ্ঞাপনের সিরিজে কবির গান এবং কবিতার ব্যবহার দেখা যায় কুমারেশ টনিকের গ্রীষ্মের সময় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে গ্রামবাংলার একটি চিত্রের নীচে লেখা রয়েছে কবির প্রকৃতি পর্যায়ের একটি গানের লাইন, ‘মধ্য দিনে যবে গান বন্ধ করে পাখী’ আর শীতের সময় প্রকাশিত রিক্ত প্রকৃতির চিত্রের নীচের লাইনটি হল, ‘উত্তর বায় জানায় শাসন’ 

পূর্ব রেলওয়ের একটি ইংরেজি বিজ্ঞাপনের কথা আগেই বলেছি, বাংলায় আর একটা বিজ্ঞাপনে আমরা দেখতে পাই অল্প কিছু অলংকরণের সঙ্গে রবীন্দ্রকবিতা, ‘এ প্রাণ রাতের রেলগাড়ি দিল পাড়ি- কামরায় গাড়ি ভরা ঘুম, রজনী নিঝুম’ কবিতার আরও দুটি ছত্র বাকি আছে কিন্তু এই লেখায় সবটা উল্লেখ করতে গেলে লেখাটি অকারণে কলেবরে বৃদ্ধি পাবে 

বেঙ্গল ইমিউনিটি কোম্পানি লিমিটেড কতৃক প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে রবীন্দ্রপ্রতিকৃতির নীচে ছাপা হয়েছে তাঁর বাণী সেখানে কবি লিখেছেন, ‘দেখেছি সকলের চেয়ে গুরুতর অভাব আরোগ্যর, আধমরা মানুষ নিয়ে দেশে কোনো বড় কাজের পত্তন সম্ভব নয়, তারা কাজে ফাঁকি দেয় প্রাণের দায়, ar shei কারণেই প্রাণের দায় দুরুহ হ’য়ে ওঠে আমরা অনেক সময় দোষ দিই বাহ্য কারণকে-কিন্তু রোগজীর্ণতা পুরুষানুক্রমে আমাদের মজ্জার মধ্যে বাস ক’রে গুরুতর কর্তব্যের ভারকে ভগ্ন উদ্যমের ফাটল দিয়ে পথে পথে সে ছড়িয়ে দিতে থাকে, লক্ষস্থানে অল্পই পৌঁছায়’ 

শনিবারের চিঠির ১৯৩৯ সালের অগাস্ট মাসের সংখ্যায় সেনোলা রেকর্ডের একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে সেইখানেই শ্রীমতি সুশীলা সেন মনিপুরীর কয়েকখানি গানের রেকর্ডের প্রশস্তি করে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘শ্রীমতি সুশীলা সেন মনিপুরীর গানও শুনিলাম নাচও দেখিলাম, আনন্দলাভ করিয়াছি উহার উন্নতি কামনা করি’ নীচে কবির সাক্ষর এই চার লাইনের হাতের লেখায় কবির বয়েস এবং অসুস্থতার চিহ্ন ফুটে উঠেছে 

দাদা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের গল্প ‘কিছুক্ষন’ অবলম্বনে তাঁর প্রথম ছবি তৈরি করেছিলেন চিত্রনির্মাতা অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় সেই ছবিতে অভিনয় করেন অরুন্ধতী দেবী, শোভা সেন, গঙ্গাপদ বসু, জীবেন বসু, নিভাননী দেবী প্রমুখ ছবির প্রচারপত্রে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ছাপা হয়েছিল বনফুলকে লেখা রবীন্দ্রনাথের পত্র এই পত্রে তিনি বনফুলকে জানিয়েছিলেন কিছুক্ষন পড়ার পরে তাঁর মুগ্ধতার কথা চিঠির তারিখ (২৪-১-১৯৩৮) কিছুক্ষন ছায়াছবির এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয় বাংলার ১৮৮১ সালের সিনেমা জগৎ পত্রিকার আষাঢ় মাসের সংখ্যায় বিমান সংস্থার বিজ্ঞাপনেও কবিকে অংশ নিতে হয়েছিল

১৯৩২ সালে রবীন্দ্রনাথ কলকাতা থেকে তেহরানে গিয়েছিলেন KLM Dutch বিমান সংস্থার Fokker F-12 বিমানে ক্লান্তিকর দীর্ঘ বিমানযাত্রার সম্পর্কে কবি কী লিখেছিলেন দেখে নেওয়া যাক কবি লিখেছিলেন, ‘Our Aeroplane journey from Calcutta to Pursia and back has been absolutely successful and the Dutch Air Service has won my complete admiration. I have had a very comfortable journey and i am thankful to the company for the care they have taken of us. At my age such tremendous distances can only be covered without fatigue by KLM.’ এই ইংরেজি বিজ্ঞাপনে কবিকে Dr. Rabindranath Tagore বলে উল্লেখ করা হয়েছে 

ছবিতে দেখা যাচ্ছে ব্যোমজানের সামনে (কবি কৌতুক করে প্লেনকে ব্যোমজান বলতেন) রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন শ্রীমতি ভিসের্স হুফট, কলকাতায় অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের তৎকালীন কনসাল জেনেরালের সহধর্মিনী, ইভার্ট ভ্যান দিজক ইন কমান্ড ও ভাইরালেই সেকেন্ড ইন কমান্ড এই দুজন অফিসার সেই সময় ফ্লাইটের দায়িত্বে ছিলেন ছবিটি দমদম বিমানবন্দরের না তেহরান বিমানবন্দরের, তার কোনও উল্লেখ নেই উক্ত বিজ্ঞাপনটি limelight পত্রিকায় ১৯৬১ সালের ৫ মে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীতে প্রকাশিত হয় বিশ্বকবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি বিমানে কলকাতা থেকে তেহরান, এমন দীর্ঘ বিমানযাত্রার কথা কল্পনাও করা কঠিন! 

ভারতের জাতীয় পানীয় চায়ের বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য কী? বা চায়ের বিজ্ঞাপনে কবি কী বলেছিলেন, এবারে সেইটা জানব সেন্ট্রাল টি বোর্ড কতৃক প্রচারিত চা বিষয়ক এক বিজ্ঞাপনে একটি রবীন্দ্রসংগীত ব্যবহার করা হয়েছিল গানটি হল ‘চা স্পৃহ চঞ্চল চাতকদল চল, চল চল হে টগবগ উচ্চল কাথলিতল-জল কল কল হে।।’ গানের নীচে কবির সাক্ষর, সঙ্গের ছবিটি সম্ভত মাখন দত্তগুপ্তর আঁকা এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয় দেশ পত্রিকায় কবি বিচিত্র পর্যায়ের ভীমপলাশী রাগাশ্রিত এই গানটি রচনা করেন বাংলার ১৩৩১ সালের শ্রাবণ মাসে 

চিন দেশ থেকে ফিরে তাঁর চৈনিকবন্ধু সু-সি-মোকে উৎসর্গ করে একটি চা চক্র স্থাপন করেন নাম দেন ‘সু-সি-মো চা চক্র’ এই চা-চক্রেই চা স্পৃহ চঞ্চল/চাতকদল চল’/চল’ হে…টগবগ উচ্ছল/ কাথলিতল-জল/ কল কল হে— গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় শান্তিনিকেতন পত্রিকায় চা চক্রের প্রথম সভায় দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচালনায় সমবেত কণ্ঠে গানটি পরিবেশত হয় শান্তিনিকেতন থেকে লেডি রানু মুখার্জীকে লেখা এক চিঠিতে কবি এই বিশেষ গানটি রচনার কারণ জানিয়েছিলেন টস কোম্পানির চায়ের একটি বিজ্ঞাপনে এই গানটির দুটি লাইন ব্যবহার করা হয়েছিল সেন্ট্রাল টি বোর্ড কতৃক প্রচারিত চা বিষয়ক আরও কিছু বিজ্ঞাপনে রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি পর্যায়ের একাধিক গানের ব্যবহার দেখা যায় গানের প্রসঙ্গই যখন উঠল, তখন জানিয়ে রাখি, ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পণ্যর প্রচারের জন্য তাঁর মৃত্যুর পরেও রবীন্দ্রনাথের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে 

বাংলার ১৩৭০ সালের শ্রাবণ সংখ্যায় সি কে সেন এন্ড কোম্পানির জবাকুসুম কেশ তৈলর বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে রনেন আয়ন দত্ত চিত্রিত ছবির সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল রবীন্দ্রকবিতা ও রবীন্দ্রসংগীত এই সুযোগে ময়নাপাড়ার থেকে কবির কৃষ্ণকলি সোজা হাজির হয়েছিল বিজ্ঞাপনের শিরোনামে রনেণবাবুর ছবির সঙ্গে সামঞ্জষ্য রেখে জবাকুসুমের গুণকীর্তন করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল এই চারটি লাইন, ‘ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের পরে লোটে কালো তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ।।‘ রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক বিজ্ঞাপনের কথা এই পর্বে সম্পূর্ণ করা গেল না, কারণ অবশ্যই সংখ্যা পরের পর্বেও যে সম্পূর্ণ করতে পারব এমন দাবি করছি না তবুও চেষ্টা করব কবি এবং বিজ্ঞাপনের বিষয়ে আরও বেশ কিছু তথ্য আলোর সামনে আনতে

পড়ুন প্রথম পর্ব